শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা 2022

বর্তমান বিশ্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য নির্দেশনা প্রদান করে থাকেন।  সেরকম একই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা 2022 এর পরিমার্জিত সংস্করণ প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।  শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে মন্ত্রণালয়।  নিচে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা 2019 এর পরিমার্জিত সংস্করণ উল্লেখ করা হলো।

সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও এর সুষ্ঠ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক “সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ), প্রণয়ন করা হয়।  উল্লিখিত নির্দেশিকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাপ্তরিক এবং ব্যক্তিগত একাউন্ট তৈরি করা এবং এতে পরিহারযোগ্য বিষয়াদির উল্লেখ রয়েছে।

এরুপ নির্দেশনার আলোকে সরকারের সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং এর আওতাধীন অধিদপ্তর/পরিদপ্তর/দপ্তর/ সংস্থার গণকর্মচারীগণকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্র নিম্নবর্ণিত বিষয়সমূহ অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে:

ক) সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যমে সরকার বা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষপ্ন হয় এমন কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা [ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে;

(খ) জাতীয় এক্য ও চেতনার পরিপন্থী কোনো রকম তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকতে হবে;

(গ) কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে এমন বা ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি পরিপন্থী কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করা যাবে না। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট বা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে এরূপ কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে;

ঘ) জাতীয় গুরুততপূরণ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো সার্ভিস/পেশাকে হেয় প্রতিপন্ন করে এমন কোনো পোস্ট দেয়া হতে বিরত থাকতে হবে;

ড) লিঙ বৈষম্য বা এ সংক্রান্ত বিতর্কমূলক কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করা যাবে না;

চ) জনমনে অসন্তোষ বা অশ্রীতিকর মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো বিষয় লেখা, অডিও বা ভিডিও ইত্যাদি প্রকাশ বা শেয়ার করা যাবে না;

ছ) ভিত্তিহীন, অসত্য ও অশ্লীল তথ্য প্রচার হতে বিরত থাকতে হবে;

জ) অন্য কোনো রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য সম্বলিত কোনো পোস্ট, ছবি, অডিও ৰা ভিডিও আপলোড, কমেন্ট, লাইক, শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা

২। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে “কন্টেন্ট” ও ‘ফ্রন্ড’ সিলেকশনে সকলকে সতর্কতা অবলম্বন এবং অপ্রয়োজনীয় ট্যাগ, রেফারেন্স বা শেয়ার করা পরিহার করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার বা নিজ একাউন্টের ক্ষতিকারক কন্টেন্টের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হবেন এবং সে জন্য প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৩। তদুপরি দেখা যাচ্ছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি/বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কতিপয় শিক্ষক-কর্মচারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তথা ফেসবুকে তাদের ব্যক্তিগত ওয়ালে ও বিভিন্ন গুপে সহকর্গী, প্রতিষ্ঠান প্রধান, উর্ধতন কর্তৃপক্ষ এবং কর্তৃপক্ষের গৃহীত সিদ্ধান্তের বিষয়ে অশোভন, অনৈতিক, শিষ্টাচার বহির্ভূত ও উক্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করছেন। এতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষন হচ্ছে।

এ ধরনের কর্মকান্ড সরকারি কর্মচারী আচরণ বিষিমালা- ১৯৭৯ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা- ২০১৮, সরকারি চাকুরি আইন- ২০১৮, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন- ২০১৮, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১, স্বীকৃতিপরাপ্ত বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষকগণের চাকুরি শর্ত বিধিমালা- ১৯৭৯ এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা কর্তৃক প্রকাশিত “সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)” এর পরিপন্থী! 

উল্লেখ্য, মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি/বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত যে সকল শিক্ষক-কর্মচারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তথা ফেসবুকে বিভিন্ন গুপ খুলেছেন, সে সকল গ্রুপের সকল গুপ এ্যাডমিন-কে গ্রুপে কনন্ট/পোন্ট অনুমোদনের ক্ষেত্রে সরকারি আইন/বিধি প্রতিপালনের নির্দেশনা প্রদান করা হলো। এ নির্দেশনাটি মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি/বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ নিয়মিত মনিটরিং করবেন। মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি/বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোন শিক্ষক-কর্মচারী বা কোনো ব্যক্তি কারো কন্টেন্ট/পোস্ট-এ সংক্ষুব্ধ হলে কন্টেন্ট/পোস্ট আপলোডকারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রমাণকসহ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবর আবেদন করবেন।

এমতাবস্থায়, মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি/বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীগণকে উল্লিখিত কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হলো। অন্যথায়, এ জাতীয় কর্মকাডের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

 

সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা 2022

সকল সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। সুতরাং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম, টুইটার এসব এ পোস্ট কমেন্ট করার সময় সতর্ক থাকতে হবে। সরকার বিরোধী কোনো পোস্ট শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে শিক্ষকদের। এছাড়া সাম্প্রদায়িক উষ্কানিমূলক কোন বক্তব্য বা লেখা প্রচার করা যাবে না। কোন শিক্ষক এ সকল কার্যকলাপের সাথে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকুরি আইন- ২০১৮, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন- ২০১৮ মোতাবেক প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কর্তৃপক্ষ।

উপরের নির্দেশনা অনুযায়ী বুঝা যাচ্ছে সকল সরকারি, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।

ফেসবুক আইডি হ্যাক হলে করণীয়

অনেক সময় ফেসবুক, টুইটার বা ইনস্টাগ্রাম আইডি হ্যাকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে। আইডি হ্যাক হলে যত দ্রুত সম্ভব নিকটতম থানায় গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে জিডি করবেন। তাহলে উক্ত আইডি থেকে অপ্রিতিকর কোন ঘটনা ঘটালে আপনি দায়ী হবেন না।

আশা করছি সকলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশনা মেনে চলবেন।

About admin

Check Also

IPEMIS এ অনুমোদিত শিক্ষক পদ সংখ্যা সংশোধন

প্রাথমিকের IPEMIS এ অনুমোদিত শিক্ষক পদ সংশোধন করার পদ্ধতি

IPEMIS এ অনুমোদিত শিক্ষক পদ সংশোধন করবেন কিভাবে?  এটি নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান।  আপনার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *