সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৯ (সংশোধিত)

০১ এপ্রিল , ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ এস.আর.ও. নম্বর ৮৮ – আইন /২০১৯ – গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৩৩ এর শর্তাংশে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি, উক্ত সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪০ ( ২) এর বিধান মোতাবেক বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে ,নিম্নরূপ শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৯ প্রণয়ন করিলেন , যথা :

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৯

সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন– 

(১) এই বিধিমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা , ২০১৯ নামে অভিহিত হইবে।

(২) ইহা অবিলম্বে কার্যকর হইবে ।

সংজ্ঞা – বিষয় কিংবা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কিছু না থাকিলে , এই বিধিমালায়

( ক ) ” কমিশন ” অর্থ বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন ;

( খ ) “ কমিটি ” অর্থবিধি ৯ এ উল্লিখিত কমিটি ;

( গ ) “ তপশিল ” অর্থ এই বিধিমালার কোনো তপশিল ; 

( ঘ ) “ নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ” অর্থ সরকার বা সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্তযে কোনো কর্মকর্তা ;

( ঙ ) “ পদ ” অর্থ তফশিলে উল্লিখিত কোনো পদ ; “ 

( চ) প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ”অর্থ সংশ্লিষ্ট পদের জন্য তপশিলে উল্লিখিত যোগ্যতা ;

( ছ) “ প্রশিক্ষণ” অর্থ কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়, বোর্ড ,  ইনস্টিটিউট বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদত্ত সার্টিফিকেট ইন এডুকেশন (সিইনএড ) বা ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন ( ডিপিএড ) বা ব্যাচেলর অফ এডুকেশন (বিএড ) ডিগ্রী;

(জ) “শিক্ষানবিশ ” অর্থ কোনো পদে শিক্ষানবিশ হিসাবে নিযুক্ত কোনো ব্যক্তি;

(ঝ) “সিজিপিএ ” অর্থ Cumulative Grade Point Average (CGPA ) ;

শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৯

( ঞ ) “ স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় ” বা “ বোর্ড ” বা “ ইনস্টিটিউট ” বা “ প্রতিষ্ঠান” অর্থে আপাতত বলবৎ কোনো আইনের দ্বারা বা আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা বোর্ড বা ইনস্টিটিউট বা প্রতিষ্ঠান এবং এই বিধির উদ্দেশ্য পূরণকল্পে , কমিশনের সহিত পরামর্শক্রমে , সরকার কর্তৃক স্বীকৃত বলিয়া ঘোষিত অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা বোর্ড বা ইনস্টিটিউট বা প্রতিষ্ঠানও ইঁহার অন্তর্ভুক্ত হইবে।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি 

তপশিলে বর্ণিত বিধান সাপেক্ষে এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৯ (৩ ) এর উদ্দেশ্য পূরণকল্পে , সংরক্ষণ সংক্রান্ত নির্দেশাবলি সাপেক্ষে , কোনো শূন্য পদে নিম্নবর্ণিত পদ্ধতিতে নিয়োগদান করা যাইবে , যথা :

( ক ) সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে ; এবং

( খ ) পদোন্নতির মাধ্যমে ।

কোনো ব্যক্তিকে কোনো পদে নিয়োগ করা হইবে না ,যদি না তজ্জন্য তাহার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকে , এবং সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে তাহার বয়স উক্ত পদের জন্য তপশিলে বর্ণিত বয়সসীমার মধ্যে না হয় : তবে শর্ত থাকে যে , কোনো ব্যক্তিকে কোনো পদে এডহক ভিত্তিতে ইতোপূর্বে নিয়োগ করা হইয়া থাকিলে উক্ত পদে অব্যাহতভাবে নিযুক্ত থাকাকালীন কার্যকালের জন্য তাহার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সর্বোচ্চ বয়সসীমা শিথিল করা যাইতে পারে ।

এই বিধিমালার অধীন নিয়োগ কার্যক্রম শূন্য পদের ভিত্তিতে উপজেলা বা ক্ষেত্রমত, থানাভিত্তিক হইবে ।

শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা- সরাসরি নিয়োগ

 ( ১) কমিশনের সুপারিশ ব্যতিরেকে কমিশনের আওতাভুক্ত কোনো পদে কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি নিয়োগ করা যাইবে না ।

( ২ ) কমিটির সুপারিশ ব্যতিরেকে সহকারী শিক্ষক পদে কোনো ব্যক্তিকে সরাসরি নিয়োগ করা যাইবে না ।

( ৩ ) কোনো পদে সরাসরি নিয়োগের জন্য কোনো ব্যক্তি যোগ্য বলিয়া বিবেচিত হইবেন না ,

যদি তিনি— 

( ক ) বাংলাদেশের নাগরিক না হন অথবা বাংলাদেশের স্থায়ীবাসিন্দা না হন অথবা বাংলাদেশের ডমিসাইল না হন ; এবং

( খ ) এমন কোনো ব্যক্তিকে বিবাহ করেন অথবা বিবাহ করিবার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন যিনি বাংলাদেশের নাগরিক নহেন ।

আরো পড়ুনঃ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রস্তুতি ২০২৩ 

কোনো পদে সরাসরি নিয়োগ করা হইবে না, যদি

(ক) নিয়োগের জন্য বাছাইকৃত ব্যক্তির স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কর্তৃক গঠিত মেডিকেল বোর্ড অথবা , ক্ষেত্র বিশেষে , তদ্‌কর্তৃক মনোনীত কোনো মেডিকেল অফিসার এই মর্মে প্রত্যয়ননা করেন যে , উক্ত ব্যক্তি, স্বাস্থ্যগতভাবে অনুরূপ পদে নিয়োগযোগ্য এবং তিনি এইরূপ কোনো দৈহিক বৈকল্যে ভুগিতেছেন না , যাহা সংশ্লিষ্ট পদের দায়িত্বপালনে কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি করিতে পারে ; এবং

( খ) এইরূপ বাছাইকৃত ব্যক্তির পূর্ব কার্যকলাপ যথাযোগ্য এজেন্সির মাধ্যমে তদন্ত না হইয়া থাকে ও তদন্তের ফলে দেখা যায় না যে , প্রজাতন্ত্রের চাকুরীতে নিযুক্তির জন্য তিনি অনুপযুক্ত নহেন ।

কোনো ব্যক্তিকে কোনো পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হইবে না, যদি তিনি

( ক ) উক্ত পদের জন্য কমিশন কর্তৃক বা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দরখাস্ত আহ্বানের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত ফিসহ যথাযথ ফরম ও নির্দিষ্টতারিখের মধ্যে দরখাস্ত দাখিল না করেন ; এবং

( খ ) সরকারি চাকুরী কিংবা কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের চাকুরীতে নিয়োজিত থাকাকালীন স্বীয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দরখাস্ত দাখিল না করেন । স্বীয় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে আবেদন করিয়া কোনো ব্যক্তি নিয়োগপ্রাপ্ত হইলে উক্ত নিয়োগ নূতন নিয়োগ হিসাবে গণ্য হইবে এবং তাহার পূর্ব চাকুরীকাল শুধু পেনশন ও বেতন সংরক্ষণের জন্য প্রযোজ্য হইবে ; তবে শর্ত থাকে যে , জ্যেষ্ঠতা বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধাদির জন্য উক্ত কর্মকাল গণনাযোগ্য হইবে না ।

শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৯ PDF

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৩ শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৯ অনুযায়ী  অনুষ্ঠিত হইবে। সুতরাং প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এর পূর্বে বিধিমালাটি ভালোভাবে পড়ুন।

About admin

Check Also

IPEMIS এ অনুমোদিত শিক্ষক পদ সংখ্যা সংশোধন

প্রাথমিকের IPEMIS এ অনুমোদিত শিক্ষক পদ সংশোধন করার পদ্ধতি

IPEMIS এ অনুমোদিত শিক্ষক পদ সংশোধন করবেন কিভাবে?  এটি নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়ে যান।  আপনার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *